পৃথিবীর ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশ। এটি বর্তমানে উদীয়মান দেশগুলোর মধ্যে একটি। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। এই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের কিছু সেরা বেসরকারি কোম্পানি বিশেষ ভূমিকা রাখছে। দেশের জিডিপি উন্নয়নের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে মানুষের সেবা করে যাচ্ছে। আজকের আর্টিকেলে বাংলাদেশের সেই সেরা কিছু বেসরকারি কোম্পানির কথা বলব যারা দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখছে প্রতিনিয়ত। তাহলে চলুন দেখে নেয়া যাক সেরা কিছু বেসরকারি কোম্পানির পরিচয়।

সেরা বেসরকারি কোম্পানিঃ প্রাণ- আরএফএল গ্রুপ

প্রাণ-আরএফএল প্রতিষ্ঠান মূলত বাংলাদেশের খাদ্য প্রস্তুতকারী কোম্পানি হিসেবে পরিচিত। প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন প্রয়াত মেজর আমজাদ খান চৌধুরী ১৯৮১ সালে। প্রথমদিকে প্রাণ যাত্রা শুরু করেছিল শাকসবজি ও ফলমূল প্রক্রিয়াজাত দিয়ে। অন্যদিকে, আরএফএল যাত্রা শুরু করেছিল ১৯৮০ সালে ঢালাইয়ের কারখানা দিয়ে। বর্তমানে প্রাণ- আরএফএল এর পণ্য গুলো হলো দুগ্ধজাত দ্রব্য,জুস, চাল, বিস্কুট ও বেকারি আইটেম, টেক্সটাইল,বিভিন্ন প্লাস্টিক পণ্য ইত্যাদি। বর্তমানে এদের পণ্য ১০০ টিরও বেশি দেশে রপ্তানি করা হয়ে থাকে।

এসিআই (অ্যাডভান্স কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ) গ্রুপঃ

এসিআই গ্রুপ বাংলা দেশের সব বড় কোম্পানির মধ্যে একটি। এসিআই মূলত তিনটি মূল অংশ নিয়ে এটির প্রক্রিয়া চালায়। যেমন- ঔষধ, ভোগ্যপণ্য এবং কৃষি শিল্প। এসিআই ১৯৬৮ সালে ইম্পেরিয়াল ক্যামিক্যাল কোম্পানির সাবসিডিয়ারি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সারাদেশে প্রায় ৮৩৮৪ এসিআই কোম্পানির বিভিন্ন শিল্পে কাজ করে যাচ্ছে।

সেরা বেসরকারি কোম্পানিঃ নাভানা গ্রুপ

নাভানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৬৪ সালে মোঃ জহুরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে।বর্তমানে নাভানা ১৫ টি ইন্ডাস্ট্রি আছে। যেমন- কার, বিভিন্ন, যন্ত্রপাতি, আবাসন প্রকল্প, কনস্ট্রাকশন, ইলেকট্রনিক্স, খাদ্যদ্রব্য, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র, তেল, গ্যাস ইত্যাদি। নাভানার ২৭ টি বিভিন্ন কোম্পানিতে ৫৫০০ জন কাজে নিয়োজিত ।

আবুল খায়ের গ্রুপঃ

এটি বাংলাদেশের অন্যতম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ১৯৫৩ সালে তামাক বিক্রি দিয়ে এটি যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু বর্তমানে স্টিল, সিরামিক, সিমেন্ট, সিগারেট ও খাদ্য প্রস্তুত করে।

সেরা বেসরকারি কোম্পানিঃ বসুন্ধরা গ্রুপ

বাংলাদেশের বড় কোম্পানির মধ্যে অন্যতম সেরা কোম্পানি হলো বসুন্ধরা গ্রুপ কোম্পানি। আহমেদ আকবর সোবহান ১৯৮৭এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শুরুতে এটি ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি কোম্পানির সাথে যৌথভাবে আবাসন ব্যবসা শুরু করেছিল। তখন এটি বেশ ব্যবসাসফল হয়েছিল। তারপর বসুন্ধরা গ্রুপ আরো বিভিন্ন খাতে ব্যবসা সম্প্রসারিত করে যেমন- উৎপাদন, কারখানা, বাণিজ্য ইত্যাদি। বসুন্ধরা গ্রুপ সরকারের কাছ থেকে ঢাকার কেরানীগঞ্জে স্পেশাল অর্থনৈতিক জোন করার অনুমতি পেয়েছে।

বেক্সিমকো গ্রুপঃ

বাংলাদেশের বিচিত্র সব শিল্প প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হল বেক্সিমকো কোম্পানি। এটি বাংলাদেশের ঔষধ শিল্প, সিরামিক ও বস্ত্রশিল্পকে উন্নত বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছে। এটাই বাংলাদেশের প্রথম কোম্পানি যা লন্ডন শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। বর্তমানে বেক্সিমকো ১০৩টি দেশে তাদের পণ্য রপ্তানি করে। বিশ্বব্যাপী ৬০ হাজার কর্মী কাজ করে। বেক্সিমকোর উৎপাদিত ঔষধ ৪৫টি দেশে রপ্তানি করা হয়।

সেরা বেসরকারি কোম্পানিঃ স্কয়ার গ্রুপ

এটি বাংলাদেশের সেরা কোম্পানি গুলোর মধ্যে একটি। স্যামসন এইচ চৌধুরী তার তিনজন বন্ধু মিলে স্কয়ার ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেছেন। এটি ঔষধ শিল্পে শক্ত অবস্থান তৈরি করে ১৯৯১ সাল থেকে। এটি বর্তমানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত। ঔষধ শিল্পের পাশাপাশি বিভিন্ন টয়লেট্রিজ, বস্ত্র, চিকিৎসা পণ্য, খাদ্যদ্রব্য ইত্যাদি প্রস্তুত করে থাকে।

সিটি গ্রুপঃ

সিটি গ্রুপ তাদের যাত্রা শুরু করেছিল সরিষার তেল কোম্পানি দিয়ে, ১৯৭২ সালে সিটি অয়েল মিলসের এর সাথে। সিটি গ্রুপের ব্যবসা গুলোর মধ্যে অন্যতম ভোগ্যপণ্য, খাদ্য, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম, জাহাজ নির্মাণ শিল্প, চিকিৎসা সামগ্রী, স্টিল শিল্প ইত্যাদি।

কাজী ফার্মস গ্রুপঃ

কাজী ফার্মস এর যাত্রা শুরু ১৯৯৬ সালে, আমদানি করা ডিম দিয়ে। বর্তমানে মুরগি, ডিম এবং খাদ্য সামগ্রী প্রস্তুত করে, যা দেশে এবং বিদেশে বেশ প্রশংসিত।

পারটেক্স গ্রুপঃ

এটি ও বাংলাদেশের বড় কোম্পানি গুলোর মধ্যে একটি। এই কোম্পানির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন ব্যবসা যেমন- খাদ্যদ্রব্য ও পানীয় সামগ্রী, স্টিল, আবাসন ব্যবসা, আসবাবপত্র, কৃষি শিল্প প্লাস্টিক ইত্যাদি।

হামিম গ্রুপঃ

বাংলাদেশের কাপড় উৎপাদন গার্মেন্টস গুলোর মধ্যে হামিম গ্রুপ অন্যতম। এই কোম্পানির উৎপাদনের মধ্যে ফ্যাশানেবল ডেনিম ফেব্রিক্স অন্যতম। বর্তমানে হামিম গ্রুপে প্রায় ৫০০০০ কর্মী রয়েছে এবং ২৬টি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি আছে। হামিম গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আছে একটি ইউনিক ডেনিম মিল, পলিব্যাগ ইন্ডাস্ট্রি, জুট মিল, চা বাগান, গণমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম ইত্যাদ।

আনন্দ গ্রুপঃ

ডক্টর আব্দুল বারী ফারিনা আনন্দ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। এটি ১৯৮৩সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আনন্দ গ্রুপ মূলত আনন্দ শিপইয়ার্ড এবং স্লিপওয়ে নামে পরিচিত।বর্তমানে আনন্দ গ্রুপ তাদের ব্যবসা প্রসার করেছে আবাসন, ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেক্সটাইল শিল্পে।

হাবিব গ্রুপঃ

হাবিব গ্রুপ এর কোম্পানিগুলোর মধ্যে আছে বিমানচালনা কোম্পানি, সিমেন্ট উৎপাদন করা,এনার্জি কোম্পানি, স্টিল, বস্ত্র উৎপাদন কোম্পানি।

যমুনা গ্রুপ অফ কোম্পানিঃ

যমুনা গ্রুপ কোম্পানি তৈরি করেছে সবচেয়ে বড় বিনোদন পার্ক “যমুনা ফিউচার পার্ক”। যমুনা গ্রুপের আরো প্রতিষ্ঠানগুলো হলো বস্ত্র, রাসায়নিক জিনিসপত্র, পানীয় কোম্পানি, চামড়া কোম্পানি। আরো আছে স্থাপনা কোম্পানি, ইঞ্জিনিয়ারিং, গণমাধ্যম ইত্যাদি।

মেঘনা গ্রুপ অফ কোম্পানিঃ

মেঘনা গ্রুপ এ আছে নিজস্ব বাইসাইকেল এর কারখানা, কার কোম্পানি ,সিমেন্ট শিল্প, প্যাকেজিং এবং বস্ত্রশিল্প।

আকিজ গ্রুপঃ

আকিজ গ্রুপের ব্যবসা গুলোর মধ্যে আছে বস্ত্রশিল্প, তামাক, সিমেন্ট ,সিরামিক, প্রিন্টিং, ঔষধ এবং ভোগ্যপণ্য।

নাসির গ্রুপঃ

নাসির গ্রুপের পণ্যগুলোর মধ্যে আছে ভাসমান গ্লাস, মেলামাইন, প্রিন্টিং এবং প্যাকেজিং কারখানা, তামাক কারখানা, জুতা, বিভিন্ন গ্লাসওয়ার এবং টিউব, এনার্জি সেভিং লাইট এর কারখানা।

র‍্যাংগস গ্রুপঃ

র‌্যাংগস গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আছে কার, ইলেকট্রনিক্স, আবাসন প্রকল্প ইত্যাদি।

অটবিঃ

অটবি হলো বাংলাদেশের প্রথম সারির ফার্নিচার গুলোর মধ্যে একটি। অটবি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছেন নিতুন কুন্ডু ১৯৭৫ সালে।

সেরা বেসরকারি কোম্পানিঃ ওয়ালটন গ্রুপঃ

বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক্স পণ্যের মধ্যে প্রথম সারির ব্র্যান্ড হল ওয়ালটন। ওয়াল্টন উৎপাদন করে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্র, মোবাইল, গাড়ি ইত্যাদি।

গ্রামীণফোনঃ

গ্রামীণফোন বাংলাদেশের প্রথম সারির একটি টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি। এটি একটি যৌথ উদ্যোগ টেলিনর এবং গ্রামীণ টেলিকম কর্পোরেশনের।টেলিনর হল নরওয়েভিত্তিক টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি যার শেয়ার গ্রামীনফোনে আছে ৫৫.৮ %। গ্রামীনফোনেই প্রথম বাংলাদেশে জিএসএম টেকনোলজি নিয়ে এসেছে।

সিভি লেখার নিয়ম চাকুরির ইন্টারভিউ এ ডাক পাওয়ার জন্যে

বেসরকারি কোম্পানি লিস্টঃ শেষ কথা

বাংলাদেশের এই বেসরকারি কোম্পানি গুলো বিভিন্নভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে তুলছে বিশ্ববাজারে। দেশের অর্থনীতিকে করে তুলেছে চাঙ্গা। বেসরকারি আরো কিছু কোম্পানি উল্লেখযোগ্য যেমন- জামান গ্রুপ অফ কোম্পানি, ট্রানস্কম গ্রুপ অফ কোম্পানি, কনকর্ড গ্রুপ, নাসা গ্রুপ ইত্যাদি।

আপনি চাইলে আমদের ফেসবুকে লাইক দিয়ে সাথে থাকতে পারেন। https://www.facebook.com/Bekarcombd