একটি চাকরীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল একটি সঠিক সিভি তৈরি করা| সিভি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি চাকরী পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রাথমিক বাছাই এর কাজ করে| অনেক সমায়ে দেখা যায় যে, সিভি লেখার নিয়ম না জানার কারণে ইন্টারভিউ এ আমন্ত্রন পায় না| তাই একটি ভাল চাকরী পেতে হলে সবার আগে চাই একটি ভাল মানের সিভি তৈরি করা| একটি ভাল সিভিতে অবশ্যই থাকতে হবে সঠিক এবং সত্য বিবরণ সাথে থাকবে ব্যক্তির প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা ও দক্ষতার যাবতীয় তথ্য| নিয়োগকারীরা একজন চাকরি প্রত্যাশীর সর্বপ্রথম এই সিভি দেখেই ইন্টারভেউ এর জন্য ডাক দিয়ে থাকেন| আকর্ষণীয় সিভি যাদের তারাই সাধারণত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে| এক কথায় এটি হল একটি শক্তিশালী দলিল|

চলুন ,তাহলে দেখে নেয়া যাক একটি ভাল সিভি তৈরি করতে হলে কি কি বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন| আশা করা যায় এই গাইডলাইনটি দেশে এবং বিদেশে চাকরির আবেদন করতে সাহায্য করবে| চলুন দেখে নেওয়া যাক সিভি লেখার নিয়ম গুলো।

সিভি কি?

সিভি হল একটি নথি যা যোগ্যতার তালিকা তৈরি করতে এবং কর্মসংস্থানের আবেদনের জন্য ব্যবহৃত হয়| সিভি যা (কারিকুলাম ভিটা )নামে পরিচিত এটি ল্যাটিন শব্দ কোর্স অফ লাইফ বা জীবনের গতি থেকে এসেছে| আমেরিকা এবং কানাডাতে সিভি অনেক সংক্ষিপ্ত হয় সেগুলো কোন নির্দিষ্ট বিন্যাসের নিয়ম অনুসরণ করে না|

সিভি লেখার নিয়ম
CV Sample

সিভি কত লম্বা হতে হবে?

একটি ভাল সিভি সাধারণত দুই পৃষ্ঠায় লিখা হয় এবং এর ভিতরে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতার আসল পয়েন্টগুলো লিখা থাকে| এতে প্রাসাঙ্গিক বিষয় লিখা থাকে|যদি কোন নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান তাদের প্রার্থীদের যোগ্যতার ও দক্ষতার বিষয়গুলো বিস্তারিত দেখতে চায় সেক্ষেত্রে সিভি লম্বা হতে পারে|

সিভি লেখার নিয়ম ও সিভিতে কি কি বিষয় উল্লেখ থাকবে ?

সিভিতে যেসব মৌলিক বিষয় লিখতে হয় সেগুলো অনেক সময় বাদ পরে যায় এতে সিভির গুরুত্ব কমে যায়| তাই কমন বিষয় গুলো যাতে এড়িয়ে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে|

যোগাযোগের ঠিকানাঃ নিজের নাম, বাসার ঠিকানা,মোবাইল নাম্বার, ইমেইল এর ঠিকানা এসব রাখা জরুরী| সিভিতে জন্মতারিখ বা ছবি রাখার দরকার নাই|

ব্যাক্তিগত প্রোফাইল: এ অংশটি সিভির গুরুত্বপূর্ণ অংশ কারণ এতে ব্যক্তির পেশাগত লক্ষ্য খুব সহজ, সাবলিল এবং সংক্ষিপ্ত বাক্য ব্যবহার করে লিখা হয়ে থাকে| ছোট ছোট বাক্য দিয়ে নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ক্যারিয়ার নিয়ে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে গুছিয়ে আকর্ষণীয় ভাবে লিখা যায়|

শিক্ষাগত যোগ্যতা: এ অংশে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয় উল্লেখ থাকে| বিভিন্ন কোর্স , সার্টিফিকেট এগুলো প্রাধান্য পায়|সবার শেষে যে গ্রাজুয়েশন শেষ হয়েছে সেটা সবার আগে দিতে হয়|

কাজের অভিজ্ঞতা : শিক্ষাগত যোগ্যতার মত কাজের অভিজ্ঞতা এ অংশে দিতে হয়| এখানেও সর্বশেষ অভিজ্ঞতাটি সবার প্রথমে দিয়ে বাকি গুলো ক্রমান্বয়ে সাজিয়ে লিখলে সুন্দর হয় ও নিয়োগকারীর নজরে আসে| তবে এগুলো প্রাসঙ্গিক হলে বেশি ভাল হয়|নিজের অভিজ্ঞতাকে কিভাবে নতুন জায়গায় প্রয়োগ করতে পারবেন যে বিষয় ও লিখতে হবে|

দক্ষতা : এখানে এ অংশে আপনি আপনার বিভিন্ন দক্ষতার বিষয় দিতে পারেন| যেমন আপনি বাংলা , ইংলিশ ছাড়া ও স্প্যানিশ এবং চাইনীজ ভাষায় দক্ষ এটি দিতে পারেন এসব বিষয় নিয়োগকারীরা গুরুত্ব দেন| চাকরীতে এসব কাজে লাগে|

আগ্রহ : সিভিতে আগ্রহ বা পছন্দের বিষয় তুলে ধরতে পারেন এবং এগুলো পরে চাকরীতে কিভাবে কাজে লাগাতে পারবেন এসব বিষয় তুলে ধরতে পারেন| এ ধরনের আগ্রহ সাফল্য অর্জনে কিভাবে সাহায্য করবে সেটিও লিখতে পারেন|

রেফারেন্স : সিভিতে রেফারেন্স দেয়াটা আবশ্যক এখানে আপনার সম্পর্কে জানবেন এমন ব্যক্তির তথ্য দেয়া দরকার| নিয়োগকারীরা এসব তথ্যকে প্রাধান্য দেয়|

সিভি লেখার নিয়ম – কি কি শব্দ রাখা ভাল

জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি লিখার সময় কঠিন শব্দ নির্বাচন না করাই ভাল| আকর্ষণীও শব্দ নির্বাচন ভাল সিভির একটি গুন এবং নিয়োগকারীর সুনজরে আসে| কিছু শব্দ এমন হতে পারে – সঠিক , সুনিশ্চিত ,উদ্ভাবনী ,সক্রিয় ,পরিশ্রমী ,বিশ্বাসযোগ্য ,দায়িত্ববান ইত্যাদি| সর্বোপরি , এসব আপনাকে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রমাণ করতে হবে|

সিভি লেখার নিয়ম – কিভাবে সিভি উপস্থাপন করা উচিত?

আপনার সিভি ই হল প্রথম জিনিস যা আপনাকে নির্বাচন করার প্রাথমিক ধাপ তাই একে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার দিকে বিশেষ খেয়াল রাখা উচিত যাতে নিয়োগকারী পুরোটা পরার জন্য উদগ্রীব হয়| আপনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা যেন নির্বাচিত পদের জন্য মানানসই হয় সেভাবে সিভি উপস্থাপন করা উচিত| নিচে কিছু বিষয় দেয়া হল :

  • সিভি হবে সংক্ষিপ্ত এবং দুই পৃষ্ঠায়|
  • সিভিতে কোন মিথ্যা কথা লিখা যাবে না|
  • সিভিতে ইমেইল এর ঠিকানা পেশাদারি হলে ভাল হয়|
  • “কারিকুলাম ভিটা” এই শব্দটি উপড়ে লিখা যাবে না|
  • ভাষার গঠন এবং বানানের দিকে খেয়াল রাখতে হবে|

অনলাইনে সিভি তৈরী করুন

আপনি চাইলে অনলাইনেই অনেক ফ্রী টুলস এর মাধ্যমে ফ্রী সিভি বা রিসিউম তৈরী করে নিতে পারেন এবং পিডিএফ আকারে ফাইল হিসেবে ডাউনলোড করে নিতে পারেন, এই লিঙ্কে আপনি আপনার রিসিউম তৈরী করতে পারে।

Create Resume Online

শেষ কথা

সিভি লিখার সময় এমন ভাবে লিখতে হবে যেন সেটা পড়ে আপনার সম্পর্কে নিয়োগকারীর আরও জানার আগ্রহ তৈরি হয়| আপনি যে প্রতিষ্ঠানের জন্য আবেদন করবেন সেটির সম্পর্কে ভালভাবে পড়াশুনা করুন ,সিভিটা কোন ধরনের হবে সেটি দেখে সিভির টেম্পলেট তৈরি করুন| সিভিতে যদি কভার লেটার দেয়ার সুযোগ থাকে তাহলে কভার লেটার দিন , এতে আপনার সম্পর্কে ভাল ধারনা তৈরি হবে| আশা করি এই গাইডলাইনটি পড়ে একটি ভাল সিভি তৈরির ধারনা হবে এবং যেকোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরীর আবেদনের জন্য মানসম্পন্ন সিভি তৈরি করতে সাহায্য করবে|

ফেসবুকে আমাদের সাথে যোগ দিতে পারেন

https://www.facebook.com/Bekar.com.bd

চাকরি প্রাথীদের জন্য রইল শুভকামনা|