শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা প্রতি বছরেই হয়ে থাকে। প্রতি বছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে থাকে। সাধারণত শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় ৩৫ বছর পর্যন্ত পরীক্ষা দেয়ার সময় থাকে। সময়ের সাথে সাথে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার অনেক পরিবর্তন এসেছে, প্রতিযোগিতা অনেক বেড়ে গেছে। শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় ভালো নম্বর না পেলে মেধাতালিকায় থাকা যায় না। তাই এই প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরীক্ষায় ভালো করতে হলে আমাদের জানতে হবে কিভাবে সঠিক নিয়মে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হয় যাতে সময় কম থাকলেও সিলেবাস শেষ করা যায়। তাই আজকের আয়োজনে থাকছে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা প্রস্তুতির আদ্যোপান্ত। সময় কারো জন্য থেমে থাকে না। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার পর পরই চলে আসে লিখিত পরীক্ষা। তাই আগে থেকে একটু মনোযোগের সাথে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিলে প্রিলিমিনারি এবং লিখিত পরীক্ষা দুটোতেই ভালো নম্বর পেয়ে মেধা তালিকার প্রথম দিকে থাকা যায়। আর পরীক্ষা ভালো করার জন্য চাই ভালো প্রস্তুতি। চলুন দেরি না করে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা প্রস্তুতি গাইডলাইনটি একটু পড়ে নেয়া যাক। আশা রাখি এই গাইডলাইনটি শিক্ষার্থীদের উপকারে আসবে।

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা প্রস্তুতিঃ পরীক্ষা পদ্ধতি

১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা থেকেই পরীক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে। সাধারণত বিসিএস পরীক্ষা যেভাবে হয় যেমন প্রথমে বাছাই পরীক্ষা, তারপর লিখিত পরীক্ষা এবং শেষে মৌখিক পরীক্ষা ঠিক এভাবেই শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা হয়ে আসছে। প্রিলিমিনারি বা বাছাই পরীক্ষাতে ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। প্রশ্ন আসে বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারন জ্ঞান থেকে ২৫ করে সর্বমোট ১০০নম্বর। পাস নম্বর ৪০, প্রতিটি প্রশ্নের মান ১ তবে ভুল উত্তরের জন্য ০.৫০ নম্বর কাটা যাবে। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের সিলেবাস প্রায় একই তবে কলেজ পর্যায়ের জন্য একটু বেশি পড়াশোনা করতে হয়।

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার প্রস্তুতিঃ কি কি পড়তে হবে

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা প্রস্তুতির জন্য আপনাকে প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা করে প্রস্তুতি নিতে হবে। কারণ প্রতিটি বিষয়েই সমান গুরুত্বপূর্ণ। কোন বিষয়কে অবহেলা করা যাবে না। যাই হোক, কি কি পড়তে হবে বা কোন অংশে বেশি জোর দিতে হবে তাই নিয়ে আলোচনা করা মনে হয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া প্রতিটি পরীক্ষাতে এনটিআরসি এর ওয়েবসাইটে সিলেবাস দেয়া হয়। সিলেবাস অনুযায়ী পড়াশোনা করতে হয়।

বাংলাঃ

বাংলা অংশে ভালো করার জন্য ব্যাকরণ অংশ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। স্কুল ও কলেজ দুটোতেই ব্যাকরণ অংশ থেকে প্রশ্ন আসে। তাই বুঝাই যাচ্ছে এ অংশ কতখানি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের প্রথমে জানতে হবে ব্যাকরণের কোন কোন অংশ থেকে প্রশ্ন আসে, ব্যাকরণের প্রশ্ন আসে কারক, সন্ধি, অনুবা্‌দ, বিভক্তি, সমা্‌স, প্রকৃতি ও প্রত্যয়, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ, বাক্য সংকোচ্‌ন, বাগধারা, বিরাম চিহ্ন, শুদ্ধ বানা্‌ন, লিঙ্গ পরিবর্তন, পারিভাষিক শব্দ এসব অংশ থেকে। স্কুল পর্যায়ের জন্য নবম ও দশম শ্রেণীর বোর্ড বই ভালোভাবে পড়তে হবে। কলেজ পর্যায়ের জন্য নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বই এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর বই পড়তে হবে। গদ্য ও পদ্যের লেখক এর নাম এবং পরিচিতি জানতে হবে। আরো পড়তে পারেন একটি ভাল শিক্ষক নিবন্ধন গাইড এর বাংলা অংশ।

ইংরেজিঃ

ইংরেজি অংশে ভালো করার জন্য আপনাকে অবশ্যই গ্রামার অংশ অনুশীলন করতে হবে বারবার। ইংরেজি গ্রামার এর কিছু অংশ থেকে বরাবরই প্রশ্ন আসে যেমন Right from of verb, tense, preposition, parts of speech, voice, narration, spelling, sentence correction গ্রামারের এই টপিকস গুলো পড়ার জন্য নবম-দশম এবং একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীর গ্রামার বই গুলো উদাহরণসহ পড়তে পারেন, এগুলো খুব ইফেক্টিভ। তাছাড়া phrase and idoims, synonyms, antonyms এগুলো মুখস্থ করতে হবে কিংবা বেশি বেশি অনুশীলন করতে হবে। ইংরেজি থেকে বাংলা এবং বাংলা থেকে ইংরেজি অনুবাদ পড়তে হবে। এছাড়া একটা ভালো গাইড থেকেও অনুশীলন করতে পারেন। আর বিগত বছরের প্রশ্ন অবশ্যই পড়তে হবে।

গণিতঃ

গণিত অংশে ভালো করার জন্য বরাবরের মতো অনুশীলন করা প্রয়োজন। গণিত অংশ প্রতিদিন অনুশীলন করলে অল্প সময়ে উত্তর দেয়া অনেক সহজ হয়। গণিত অংশে প্রশ্ন আসে পাটিগণিত, বীজগণিত ও জ্যামিতি থেকে।

পাটিগণিত – পরিমাপ ও একক, ঐকিক নিয়ম, সুদকষা, অনুপাত, শতকরা, লাভ ক্ষতি ও ভগ্নাংশ থেকে।
বীজগণিত – উৎপাদক, বর্গ ও ঘন সংবলিত সূত্রাবলী ও প্রয়োগ, গসাগু, বাস্তব সমস্যার সমাধান, বীজগাণিতিক সূত্র গঠন ও প্রয়োগ, সূচক ও লগারিদমের সূত্র ও প্রয়োগ।
জ্যামিতি- ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, বর্গক্ষেত্র, রম্বস বৃত্ত এইগুলো থেকে প্রশ্ন আসে। অনেক সময় সূত্রগুলো থেকেও প্রশ্ন আসে। কলেজ পর্যায়ে ত্রিকোণমিতি ওপরিমিতি থেকে প্রশ্ন আসে।

গণিত অংশে ভালো করার জন্য অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বই অনুশীলন করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এছাড়া একটি ভালো গাইড বই অনুসরণ করলেও আশানুরূপ ভালো করা যায়।

সাধারণ জ্ঞানঃ

সাধারণ জ্ঞান অংশে বাংলাদেশ বিষয়াবলী থেকে বেশি প্রশ্ন আসে। এক্ষেত্রে mp3 সিরিজের বাংলাদেশ বিষয়াবলী বেশ উপকারী। সেখান থেকে টপিক ধরে পড়ে ফেলতে হবে। আর আন্তর্জাতিক অংশে বিভিন্ন দেশ, মুদ্রা, রাজধানী, দিবস, পুরস্কার ও সম্মাননা, খেলাধুলা থেকে বেশি প্রশ্ন আসে। এই টপিক গুলো ও mp3 সিরিজের আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী থেকে পড়া যায়। সাম্প্রতিক বিষয়ের জন্য অবশ্যই কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স পড়া গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত পত্রিকা পড়ার অভ্যাস করতে হবে তাহলেই এই অংশে ভালো করা সম্ভব।

বিজ্ঞান ও কম্পিউটারঃ

বিজ্ঞান ও কম্পিউটার অংশে ভালো করার জন্য বেসিক বিষয়গুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে এবং বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান করলেই অনেক এগিয়ে থাকা সম্ভব হয়। বিগত বছরের প্রশ্ন অনেক সময় কমন আসে। এই অংশে আরো ভালো করার জন্য একটা গাইড বইয়ের সাহায্য নেয়া যায়।

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা প্রস্তুতিঃ লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি

প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিজ নিজ বিষয়ভিত্তিক ১০০ নম্বরের ৩ ঘন্টার লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। স্কুল পর্যায়ের জন্য নবম-দশম শ্রেণীর বইগুলো এবং কলেজ পর্যায়ে লিখিত পরীক্ষার জন্য অনার্স পর্যায়ে নিজ নিজ বিষয়ের উপর পড়াশোনা করলে ভালো করা যায়। এছাড়া বাজারে বিভিন্ন ধরনের লিখিত পরীক্ষার জন্য বই পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে দিকদর্শন প্রকাশনীর বেসরকারি শিক্ষক/ প্রভাষক নিয়োগ লিখিত পরীক্ষার সহায়িকা সিরিজের বই পড়তে পারেন। এতে অল্প সময়ে লিখিত পরীক্ষা সম্পর্কে ভালো ধারণা পাওয়া যাবে। তাছাড়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান করতে হবে। বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান করলে ভালো ধারণা পাওয়া যাবে এবং পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়া যাবে। লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন প্যাটার্ন নিচে দেওয়া হলো –
রচনামূলক প্রশ্ন থাকে ৫ টি
প্রতিটি প্রশ্নের মান ১৫
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন থাকে ৫টি
প্রতিটি প্রশ্নেরই বিকল্প প্রশ্ন থাকবে।

এই বিষয়গুলো পড়লে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব। আপনি যে চাকরির পরীক্ষাই দেন না কেন পড়াশোনার কোন বিকল্প নাই। পড়াশোনার জন্য দৈনিক ৭-৮ ঘন্টা সময় দিতেই হবে। পড়াশোনা করার ফাকে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করুন যাতে আপনার পরিশ্রম বৃথা না যায়। মনোবল শক্ত রেখে পড়াশোনা চালিয়ে যান। সফলতা আসবেই। পরিশেষে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার্থীদের জন্য রইল শুভকামনা।