medical admission preparation

মেডিকেল ভর্তি প্রস্তুতি কিভাবে নেওয়া উচিত?

বাংলাদেশে  প্রতিবছরই মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের তুমুল প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে ৩০টি সরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে আর এসব মেডিকেল কলেজগুলোতে মোট আসন সংখ্যা রয়েছে ৩১২৮। আর মাত্র কিছুদিন পরেই এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হয়ে যাবে। আমরা সকলেই জানি এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্টের পরপরেই মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তাই হাতে সময় থাকে অনেক কম। এ স্বল্প সময়ের মধ্যেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়। মেডিকেলে চান্স পেতে হলে মূলত মূল টেক্সট বই পড়ার কোন বিকল্প নেই। আজকের আর্টিকেল এ মেডিকেল ভর্তি প্রস্তুতি কিভাবে নেওয়া উচিত এ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে। যারা মেডিকেলে পড়তে চান তাদের জন্য আজকের এ আর্টিকেল। তাহলে এক নজরে দেখে নেয়া যাক মেডিকেল ভর্তি প্রস্তুতি কিভাবে নেওয়া  উচিত? 

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতিঃ

বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মত মেডিকেলে ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং সময় থাকে ১ ঘন্টা। পরীক্ষার মানবন্টন সাজানো হয়  জীববিজ্ঞান- ৩০ নম্বরের, রসায়ন- ২৫ নম্বরের, পদার্থবিজ্ঞান- ২০ নম্বরের, ইংরেজি- ১৫ এবং সাধারণ জ্ঞান- ১০ নম্বরের।  

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতিঃ

আমরা আগেই জেনেছি যে, কোন কোন বিষয় থেকে প্রশ্ন আসে। নিচে বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা হলো।

  • জীববিজ্ঞান –  মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় জীববিজ্ঞান বিভাগের বেশিরভাগ প্রশ্ন প্রাণীবিজ্ঞান অংশ থেকে আসে। মানবদেহ অধ্যায়টি গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে কারণ এখান থেকে বেশি প্রশ্ন আসে। উদ্ভিদবিজ্ঞান অংশ থেকে জৈবিক প্রক্রিয়া, উদ্ভিদের বিভিন্নতা এসব অংশ থেকে প্রশ্ন আসে। বিভিন্ন বিজ্ঞানী ও তাদের মতবাদ সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। বিভিন্ন আবিষ্কার ও মতবাদের সাল অবশ্যই মনে রাখতে হবে এগুলো থেকে ও প্রশ্ন আসে। 
  • রসায়ন – রসায়ন অংশে ভালো করতে হলে রসায়ন দ্বিতীয় পত্রকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কিছু বিক্রিয়া আছে যেগুলো বিজ্ঞানের নামে নামাঙ্কিত, সে সকল বিক্রিয়া ও আবিষ্কারের সাল ভালোভাবে মনে রাখতে হবে। রাসায়নিক বন্ধন, মৌলের পর্যায়বৃত্ত ধর্ম, ডি-ব্লক মৌল, জৈব অ্যাসিড, তড়িৎ রাসায়নিক কোষ, অ্যালডিহাই, হাইড্রোকার্বন ইত্যাদি বিষয়ে ভালোভাবে পড়তে হবে। 
  • পদার্থবিজ্ঞান –  পদার্থবিজ্ঞান অংশে ভালো করতে হলে সকল প্রকার সূত্র, সূত্রের বিভিন্ন চলকের পারস্পরিক সম্পর্ক ও ছোট কিন্তু টেকনিক্যাল অংক গুলো দেখতে হবে। কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ চার্ট ও অবশ্যই দেখতে হবে। ছোট  ও সূত্রের সাহায্যে যে অংকগুলো করা যায় সে সকল প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা বেশি থাকে। পরীক্ষার হলে যেহেতু ক্যালকুলেটরের ব্যবহার নিষিদ্ধ তাই কিছু কিছু জিনিস অবশ্যই মুখস্থ রাখতে হবে। একক মান, পার্থক্য এবং আরো যত ছক আছে ভালোভাবে পড়তে হবে অর্থাৎ একেবারে মাথায় ঢুকিয়ে রাখতে হবে। 
  • ইংরেজি –  ইংরেজি বিষয়ে ভালো নম্বর তুলতে হলে বিগত বছরগুলোর মেডিকেল ও ডেন্টাল প্রশ্নপত্রে যেসব বিষয়ের উপর ইংরেজি প্রশ্ন গুলো এসেছে সেগুলো বারবার পড়তে হবে। ইংরেজিতে ভালো করতে হলে অবশ্যই ভোকাবুলারি তে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। গ্রামার অংশে ভালো করতে হলে টেন্স, পার্টস অফ স্পিচ,  রাইট ফর্ম অফ ভার্ব, আর্টিকেল, ন্যারেশন, সিনোনিম এবং এন্টোনিম, ভয়েস, প্রিপজিশন, ফ্রেজ এবং ইডিয়মস ইত্যাদি সমাধান করার পাশাপাশি ভালো কোন গ্রামার বই থেকে ওই বিষয়গুলো আরও বিস্তারিত পড়তে হবে। এক্ষেত্রে কম্পিটিটিভ এক্সাম বইটি ভালো কাজে দিবে।
  • সাধারণ জ্ঞান –  সাধারণ জ্ঞান অংশে বিগত কয়েক বছরের মেডিকেলের প্রশ্ন,  বিসিএস এর প্রশ্ন, সাধারণ জ্ঞানের বই গুলোর যেমন বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ের অংশগুলো ভালোভাবে পড়তে হবে। আলোচিত ঘটনা বাংলাদেশ  এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ে ভালোভাবে ধারণা রাখতে হবে। তবে সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া আলোচিত বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। ক্ষুদ্রতম, বৃহত্তম, প্রথম ও একমাত্র বিভিন্ন দেশি ও আন্তর্জাতিক সংগঠন, বিভিন্ন দেশ সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে হবে। তবেই সাধারন জ্ঞানে ভালো করা সম্ভব। 

পরিশেষে, মেডিকেল ভর্তি প্রস্তুতির জন্য অবশ্যই কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। নিজের সেরাটা দিয়ে পড়াশোনা করে যেতে হবে। কারণ ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করার জন্য নিজের সেরা প্রস্তুতিটা দিতে হবে। সর্বশেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যে, নিজের মনে থাকা সব নেতিবাচক চিন্তা দূর করতে হবে। অনেকেই দেখা গেছে যে দুই তিনটা মডেল  টেস্টে খারাপ করলেই মনে করে তার আর চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। এটা কিন্তু একেবারেই ভুল ধারণা বিশ্বাস রাখতে হবে যে চান্স অবশ্যই হবে এবং যত যাই কিছুই ঘটুক না কেন। নিজের আত্মবিশ্বাসে আস্থা রাখতে হবে। সবাই ঠিকভাবে পড়াশোনা করুন নিজের সেরাটা দিয়ে যান। সবার জন্য রইল শুভকামনা।