university-admission-preparation

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতি কিভাবে নেওয়া উচিত?

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে পাশ করা রীতিমত একটা বিশাল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে জয় করার সমান। মাত্র দুমাস পরে এইচ এস সি পরীক্ষা শুরু হবে। আর পরীক্ষা শেষ হতে না হতেই ভর্তি যুদ্ধের দামামা বেজে যাবে। সময় হাতে থাকে খুবেই অল্প মোটামুটি চার থেকে পাঁচ মাস, এই কয়েকটা মাসেই হল অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। এই সময়টাতে অন্যান্য সব কাজ বাদ দিয়ে যারা শুধু লেখা পড়ায় সময় দিতে পারবে তাদের হাতেই আসবে কাঙ্খিত সাফল্য। জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার মত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা হল ভর্তি পরীক্ষা। 

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতি কিভাবে নেওয়া উচিত? কিন্তু ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার আগে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত আপনি কোন জায়গায় পড়তে চান। কারণ এই সময়ের  একটা ভুল সিদ্ধান্ত আমাদের জীবন টাকে হতাশার বিশাল মহাসমুদ্রে ফেলে দিতে পারে। ভর্তি পরীক্ষার আগের সময়টাতে সবাই একটু একটু দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যায়। এইসব দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকতে অনেক সময় অপচয় হয়ে যায়। আজকের লেখাটি পড়লে আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতি কিভাবে নেওয়া উচিত এ বিষয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্ব থাকবে না। চলুন তাহলে দেখে নেই বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতি কিভাবে নেওয়া উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতি নেওয়ার আগে পরিকল্পনাঃ 

ভর্তি যুদ্ধের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে প্রথমেই দরকার একটি সুন্দর পরিকল্পনা। কয়েকটি বিষয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার জন্য খেয়াল রাখা জরুরী। যেমন-

  • যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী, প্রথমেই সেগুলোর  একটি তালিকা তৈরি করতে হবে। 
  • নিজের আগ্রহ কে প্রাধান্য দেওয়া উচিত সবার আগে, অনেকেই দেখা যায় নিজের ইচ্ছার চেয়ে বাবা-মা আত্মীয়-স্বজনদের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেয়। মনের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি নিলে তাতে সাফল্য নাও আসতে পারে।
  • বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি দোটানায় ভোগেন। চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিষয়গুলোতেও পড়ার সুযোগ থাকে। অনেককেই দেখা যায় একই সঙ্গে একাধিক বিষয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে থাকে, এতে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
  • ভর্তির জন্য কোচিং করা আরেকটি সমস্যা। অনেকেই মনে করেন কোচিং না করলে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া সম্ভব না কিন্তু এটি মূলত নির্ভর করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার উপর। অনেক সময় দেখা যায় শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কোচিং করে বা প্রাইভেট টিউটরের কাছে পড়ে। আবার অনেকে কোচিং না করেও ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পায়। তবে ভর্তি পরীক্ষায় সফল হতে একটি ভালো গাইডলাইন অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে তা না হলে প্রস্তুতিতে বড় রকমের ঘাটতি থেকে যায়।
  • বন্ধুরা সবাই এক জায়গায় কোচিং বা প্রাইভেট পড়ছে এই যুক্তিতে তাদের সঙ্গে গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দেওয়া মোটেই উচিত না।
  • নিজের সামর্থ্য যাচাই করে লক্ষ্য ঠিক করা উচিত। লক্ষ্য অনুযায়ী অগ্রসর হলে  তবেই সফলতা অর্জনের পথ সহজ হয়।
  • ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে অনেকে দূর থেকে এসে ঢাকায় কোচিং করেন। এ বিষয়ে কয়েকটি জিনিস মাথায় রাখা জরুরী যেমন- পরিবেশ ও নিরাপত্তা যাচাই করে মেসে উঠতে হবে, সবসময় স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ও বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। এগুলো না হলে রোগে আক্রান্ত হয়ে স্বপ্ন ধূলিসাৎ হতে পারে।

কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কেমন প্রস্তুতিঃ

মনে রাখা ভালো ঢাকা , জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় , শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত ইউনিট ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ক ইউনিট সাধারণত বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য। খ ইউনিট মানবিক বিভাগের জন্য এবং গ ইউনিট ব্যবসায় শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত। তবে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে কিন্তু ইউনিটের এমন ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয় না। এ কারণে ভর্তি ফরম সংগ্রহের সময় এটি ভালোভাবে জেনে নিতে হবে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে বিষয়ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। যেমন- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে  আইন নিয়ে যারা পড়তে চান, তারা সরাসরি আইন অনুষদের অধীনে পরীক্ষা দিবে। আবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমুদ্র বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে চাইলে ছ ইউনিটে সমুদ্র বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধীনে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। তবে যেভাবেই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হোক না কেন সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি মোটামুটি একই রকম। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতিঃ

  • বাংলাঃ বিগত বছরগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে গদ্য ও কবিতা অংশ থেকে বেশ কিছু প্রশ্ন প্রতিবার আসে। সে ক্ষেত্রে গদ্যের মূল বিষয়, লেখক পরিচিতি, তার সাহিত্যকর্ম, জীবনী ইত্যাদি বিষয়ে জানতে হবে। কবিতার ক্ষেত্রেও ঠিক তাই। ব্যাকরণ অংশের জন্য ভাষা, ব্যাকরন, শব্দ, কারক,  সমাস, সন্ধি, বিভক্তি, বচন, বাক্য সংকোচন, বাগধারা, উপসর্গ ও অনুসর্গ বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো ভালো ভাবে অনুশীলন করতে হবে।
  • ইংরেজিঃ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষাতে ইংরেজির ক্ষেত্রে গ্রামার অংশে অধিক জোর দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে পার্টস অফ স্পিচ, আর্টিকেল, টেন্স, ভয়েস, ন্যারেশন,   কারেকশন, রাইট ফর্ম অফ ভার্ব, ট্রানসলেশন, সিনোনিম, এন্টোনিম, ট্রানসফর্মেশন অফ সেন্টেন্স, জইনিং সেন্টেন্স, কম্প্রেহেনশন এগুলো বিষয় ভালোভাবে পড়তে হবে। পাশাপাশি ইংরেজি পাঠ্য বইয়ের কিছু কবিতা ও স্টোরি খুব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে। এছাড়া ব্যারেন্স  এবং টোফেল বই গুলো অনুসরণ করতে হবে।
  • রসায়নঃ  উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির রসায়ন বই পড়তে হবে। একটি বিষয় সবসময় মনে রাখতে হবে এইচএসসি বা উচ্চ মাধ্যমিকের সিলেবাস তো আছেই ভর্তি পরীক্ষায় সফল হতে হলে বইয়ের সব অধ্যায় ভালোভাবে পড়তে হবে সাথে একটি গাইড রাখা ভালো হবে।
  • পদার্থঃ  পদার্থবিজ্ঞানে প্রস্তুতির জন্য উচ্চমাধ্যমিক পাঠ্যবইয়ের সাথে সাথে একটি গাইড বই অনুসরণ করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।
  • জীববিজ্ঞানঃ  মূল বইয়ের পাশাপাশি একটি ভালো গাইড অনুসরণ করলে ভর্তি পরীক্ষায় এই অংশটিতে খুব ভালো করা যাবে। প্রতিটা বিষয়ের যতটা সম্ভব খুটিনাটি বিষয় যেন আয়ত্তে রাখা সম্ভব হয়।
  • সাধারণ জ্ঞানঃ  সাধারণ জ্ঞানের মূলত দুটি। একটি আন্তর্জাতিক এবং অন্যটি বাংলাদেশ। এই দুই বিষয়ের খুঁটিনাটি বিষয় জানতে হবে। এক্ষেত্রে mp3 সিরিজের বইগুলো খুব কাজে দেয়। এছাড়া কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স  খুব গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়ে ভালো করার জন্য। সাধারণ জ্ঞান অংশে ভালো করার জন্য অবশ্যই সবসময় আপডেট থাকতে হবে।

পরিশেষে, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আপনি যদি এইচএসসি বা উচ্চমাধ্যমিকের মূল পাঠ্য বিষয়গুলো ভালভাবে পড়ে থাকেন তাহলে ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করা সম্ভব। কেননা এই পাঠ্যবইয়ের বাইরে থেকে প্রশ্ন আসে না। সর্বোপরি খুব ভালোভাবে পরিশ্রম করতে হবে তবেই বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হওয়া সম্ভব হবে। বাকিটা সর্বশক্তিমান আল্লাহতালার কাছে ছেড়ে দিতে হবে। সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থভাবে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে থাকবেন।