উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পরে পরেই শিক্ষার্থীরা ভর্তি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে। তাদের পরিশ্রম সফলতা পায় যখন তারা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কোন ভাল প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনার সুযোগ পায়। প্রযুক্তিনির্ভর পড়াশোনার জন্য আমাদের জানার প্রয়োজন হয় ভালো মানের কোন প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব। বাংলাদেশের প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গুলো বেশ উচ্চমানের পড়াশোনার দিকে গুরুত্ব দেয়। তবে এটা সত্যি যে, দেশের প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তারপরও যাদের যোগ্যতা এবং মেধা আছে তাদের জন্য সেরা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুয়ার সব সময় খোলা থাকে। তাই আজ আমরা কথা বলবো দেশের সেরা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়ে। বাংলাদেশের প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গুলো বরাবরই বেশ প্রশংসনীয়। চলুন তাহলে দেখে নেয়া যাক বাংলাদেশের সেরা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গুলো সম্পর্কে কিছু কথা।

সেরা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় – বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ঃ

প্রযুক্তিগত উচ্চমান সম্পন্ন শিক্ষার জন্য বাংলাদেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় হল বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েট। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। দূরের শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হল এর ব্যবস্থা আছে। এছাড়াও আছে লাইব্রেরী, অডিটোরিয়াম উন্নত গবেষণাগার। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার, প্ল্যানিং এবং বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করছে। বর্তমানে বুয়েটে ৫টি অনুষদের অধীনে ১৮টি বিভাগ রয়েছে। এছাড়াও প্রতি বছরেই এখানে স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডি পর্যায়ে নতুন শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ দেয়া হয়। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নেয়া শিক্ষার্থীরা ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আর্কিটেকচার এর বিভিন্ন বিষয়ে ডিগ্রী নিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে এবং বিদেশেও সুনাম অর্জন করছে। বুয়েটে পড়াশোনার জন্য প্রতিবেশী দেশ ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইরান, শ্রীলংকা থেকে শিক্ষার্থীরা আসে।

সেরা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় – শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ঃ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাবিপ্রবি নামে অধিক পরিচিত।এ বিশ্ববিদ্যালয়টি সিলেটে অবস্থিত দেশের একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়। উন্নত প্রযুক্তি ও গবেষণার জন্য এ বিশ্ববিদ্যালয়টি বাংলাদেশের সেরা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে একটি। শাবিপ্রবি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আমেরিকান ক্রেডিট সিস্টেম চালু করেছে। বাংলাদেশ সরকার দেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে এটি ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠা করে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি অনুষদের অধীনে মোট ২৮টি বিভাগ রয়েছে। শাবিপ্রবিতে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ভর্তির সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হয়। একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, খেলার মাঠ, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আবাসন হল, অডিটরিয়াম সহ অনেকগুলো ভবন রয়েছে।

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ঃ

বাংলাদেশের সেরা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম। উচ্চ মানের শিক্ষা, মৌলিক বিজ্ঞানের শাখা সমূহ গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বেশ পরিচিত। কুয়েট ১৯৬৭ সালে বাংলাদেশ খুলনা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর একাডেমিক ও গবেষণায় ভালো উন্নতির জন্য এবং এর শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হওয়ার জন্য এটি ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা বিআইটি হিসেবে রূপান্তরিত হয়। পরে বিআইটির একাডেমিক ও গবেষণার সফলতাকে আরও উন্নত করতে এর নাম পরিবর্তন করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রাখা হয়। এটি ২০০৩ সালে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। এতে তিনটি অনুষদের অধীনে ১৪টি বিভাগ রয়েছে। এখানে এমএসসি, এম ফিল এবং পিএইচডি গবেষণা করা হয় খুব উন্নত পরিবেশে । এছাড়া বিদেশি শিক্ষার্থীরাও এখানে পড়াশুনা করতে আসে।

সেরা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় – রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ঃ

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বা রুয়েট বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশি পিএইচডি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রুয়েট অন্যতম ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রাচীনতমএবং উত্তরবঙ্গের একমাত্র প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। রাজশাহী শহর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে পদ্মার তীর ঘেঁষে মনোরম পরিবেশে এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে অবস্থিত রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। মোট ১৫২একর জায়গার উপর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে রুয়েট ক্যাম্পাস। রুয়েটে বর্তমানে চারটি পূর্ণাঙ্গ অনুষদের অধীনে মোট ১৮টি ডিগ্রি প্রদানকারি বিভাগ রয়েছে। বুয়েট ক্যাম্পাসে রয়েছে একটি কেন্দ্রীয় গবেষণাগার, শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য রয়েছে একটি হাসপাতাল, অডিটোরিয়াম এবং আবাসিক হল সমূহ। রুয়েটের প্রকৌশলীরা দেশের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ঃ

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে বাংলাদেশের আরেকটি উচ্চমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হল পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২০০০ সালে যা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পটুয়াখালী কৃষি কলেজ থেকে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসটি প্রায় ৭২ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এবং ৩৭ একর জমির উপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল কৃষি গবেষণা খামার রয়েছে। ক্যাম্পাসের শোভাবর্ধনের জন্য আরও রয়েছে একাডেমিক ভবনের সামনে বৃক্ষ শোভিত সুদীর্ঘ একটি লেক। এছাড়াও ক্যাম্পাসে আছে ছাত্র ছাত্রীদের জন্য আবাসিক হল, মসজিদ, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, গ্রন্থাগার। বর্তমানে আটটি অনুষদ রয়েছে। আরো তিনটি পৃথক অনুষদ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সাগর সৈকত কুয়াকাটায়। এগুলো হলো ফিশারিজ অনুষদ, ফরেস্ট্রি বিজ্ঞান এবং সমুদ্রবিজ্ঞান। এখানে সেমিস্টার পদ্ধতি শিক্ষা ব্যবস্থা থাকায় কোন সেশন জট তৈরি হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ অর্থাৎ অষ্টম সেমিস্টারেরশিক্ষার্থীদের জন্য ১২ সপ্তাহের ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক আর এতে স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে হাতে কলমে কাজ করা হয়। এই ইন্টার্নশিপের প্রধান লক্ষ্য হলো কৃষকদের অভিজ্ঞতার সাথে ইন্টার্নদের জ্ঞানের সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে কৃষি ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার ঘটানো। আর এ কারণেই কৃষকরা লাভবান হচ্ছে এবং কৃষি ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। মোটকথা কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তিতে কৃষি কাজ করাতে উৎসাহী করে তুলছে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ঃ

মাভাবিপ্রবি বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৯৯৯ সালে টাঙ্গাইলের সন্তোষে প্রতিষ্ঠিত হয়। মাভাবিপ্রবির পড়াশোনা ইংরেজি মাধ্যমে হয়ে থাকে। পড়াশোনা সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখার জন্য মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং কর্মচারীদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রতিবছর স্নাতক পর্যায়ে এখানে ৮১০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের আয়তন প্রায় ৫৭.৯৫ একর। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য রয়েছে আবাসিক হল, লাইব্রেরী, প্রশাসনিক ভবন এছাড়াও রয়েছে মাওলানা ভাসানীর মাজার এবং আরও অনেক কিছু। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ভর্তির সুযোগ রয়েছে।

সেরা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় – হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ঃ

এ বিশ্ববিদ্যালয়টি বাংলাদেশের একটি অন্যতম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্ববিদ্যালয়। এটি দিনাজপুরে অবস্থিত। এ বিশ্ববিদ্যালয়টি জনদরদি হাজী মোহাম্মদ দানেশ এর নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়টি পূর্বে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহের অধিভুক্ত কলেজ ছিল। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯টি অনুষদের অধীনে ২৩টি বিভাগ রয়েছে। দিনাজপুর শহর হতে ক্যাম্পাসটি মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ক্যাম্পাসটি সাজানো আছে সবুজ গাছপালা, দৃষ্টিনন্দন সুবিশাল ভবন, শহীদ মিনার, মসজিদ, একাডেমিক ভবন, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রয়েছে আবাসিক ভবন, সেমিনার ভবন এবং অডিটোরিয়াম। হাবিপ্রবিতে আরও রয়েছে দুষ্প্রাপ্য গাছগাছালির আকর্ষণীয় সংগ্রহ নিয়ে তৈরি বোটানিকাল গার্ডেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিস্টার পদ্ধতিতে পাঠ দান করা হয়। বাস্তব জ্ঞান অর্জনের জন্য রয়েছে শিক্ষাসফর ব্যবস্থা। মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে বৃত্তির ব্যবস্থা। হাবিপ্রবিতে ৯টি অনুষদের অধীনে ২৩টি স্নাতক ডিগ্রী এবং ৩২টি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ঃ

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে ২০০৬ সালে। এটি দেশের পঞ্চম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। নোবিপ্রবি ১০১ একর জায়গা নিয়ে অবস্থিত। নোবিপ্রবিতে একটি মেরিন স্টেশন এবং একটি গ্রীন হাউস রিসার্চ সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এখানে রয়েছে সুসজ্জিত একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, একটি অডিটোরিয়াম এবং আবাসিক হল ইত্যাদি। নোবিপ্রবিতে ২০১৮ সালে আরেকটি একাডেমিক কাম ল্যাব ভবনের কাজ শুরু হয়েছে যার আয়তন ৪ লক্ষ ৩২ হাজার বর্গফুট যা ২০২০ সালে উদ্বোধন হবে এবং এটি হবে বাংলাদেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সর্ববৃহৎ একাডেমিক ভবন। নোবিপ্রবিতে ৬টি অনুষদের অধীনেগান ২৮টি বিভাগ রয়েছে এবং ২টি ইনস্টিটিউট রয়েছে।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ঃ

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বা যবিপ্রবি বাংলাদেশের স্বনামধন্য আরো একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর উচ্চমান সম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যশোর জেলায় অবস্থিত এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২০০৯ সালে। এখানে ৭টি অনুষদ রয়েছে। যবিপ্রবিতে আরো রয়েছে ছাত্র ছাত্রীদের জন্য আবাসিক হল, লাইব্রেরী, ডরমেটরি, মসজিদ, অডিটোরিয়াম, উপাচার্যের বাসভবন, মেডিকেল ফ্যাসিলিটিসহ আরো অনেক কিছু। এ প্রতিষ্ঠানটি নতুন প্রযুক্তির সাথে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিয়ে যাবার প্রচেষ্টা নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ঃ

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহী বিভাগের অন্তর্গত পাবনা জেলায় অবস্থিত দেশের সপ্তম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০৯ সাল থেকে এর শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়েছে। পাবিপ্রবি ক্যাম্পাসটি ৩০ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত। এখানে ৫টি অনুষদের অধীনে মোট ২১টি বিভাগ রয়েছে এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ রয়েছে ৭টি। ক্যাম্পাসটিতে আরো রয়েছে আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরী, পাঁচটি আধুনিক গবেষণাগার, একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন ইত্যাদি।

সেরা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় – বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ঃ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত গোপালগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। শিক্ষার্থী সংখ্যার দিক দিয়ে বর্তমানে এটি বাংলাদেশের চতুর্থ বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়। বশেমুরবিপ্রবিতে বর্তমানে ৯টি অনুষদের অধীনে ৩৪টি বিভাগ রয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পদ্ধতি হলো কোর্স ক্রেডিট সিস্টেম পদ্ধতি। সেমিস্টার পদ্ধতি হওয়ায় এখানে কোন সেশনজট নেই পাশাপাশি হাতে কলমে শিক্ষাদানের জন্য রয়েছে গবেষণাগার। বশেমুরবিপ্রবির ক্যাম্পাসে রয়েছে ছাত্র ছাত্রীদের জন্য আবাসিক ভবন, লাইব্রেরী, একাডেমিক ভবন, ক্যাফেটেরিয়া, মসজিদ, পানি শোধনাগার ইত্যাদি। শিক্ষার্থীদের উন্নত শিক্ষা জন্য রয়েছে আধুনিক গবেষণাগার, গড়ে তোলা হয়েছে ইংরেজি ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব।

সেরা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় – ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ঃ

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ডুয়েট প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত পড়াশোনার জন্য একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ বিদ্যালয়টি গাজীপুর জেলায় অবস্থিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদ হিসাবে এই বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৮০ সালে যাত্রা শুরু করে। দেশে ক্রমবর্ধমান শিক্ষার্থীর প্রযুক্তিগত পড়াশোনার চাহিদার কথা বিবেচনা করে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি গড়ে উঠেছে। ডুয়েট ৩টি অনুষদের অধীনে ৯টি বিভাগে ডিগ্রি প্রদান করে। এছাড়া বাংলাদেশে নয়টি পিএইচডি ডিগ্রী প্রদানকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি হলো ডুয়েট।

এছাড়াও আরো কিছু প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে রয়েছে, এগুলোর নাম নিচে দেয়া হল।

  • চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
  • আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
  • পুণ্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি
  • অতীশ দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি
  • বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়
  • রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

সিভি লেখার নিয়ম চাকুরির ইন্টারভিউ এ ডাক পাওয়ার জন্যে

প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থী বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার মাধ্যমে নিজেকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য প্রস্তুত করে তোলে। সেরা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে এত কিছু বলার পেছনে কারণ হলো এ ধরনের শিক্ষা আজকের দিনে একজন শিক্ষার্থীকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলে। বর্তমানে পৃথিবীতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর পেশাগুলো সবচেয়ে দামি পেশা হিসেবে বিবেচিত। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে নেতৃত্ব তারাই দিবে যারা প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকবে। তাই বলা যায় আধুনিক বাংলাদেশের দক্ষ কারিগর সৃষ্টিতে সেরা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ভূমিকা থাকবে সবচেয়ে বেশি।

আপনি চাইলে আমদের ফেসবুকে লাইক দিয়ে সাথে থাকতে পারেন। https://www.facebook.com/Bekarcombd