চাকুরির পাশাপাশি বাড়তি আয়

চাকুরির পাশাপাশি যে কাজগুলো করতে পারেন বাড়তি আয়ের জন্য

চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের জন্য যে কাজগুলো করা হয়ে থাকে সেগুলো খন্ডকালীন পেশা হিসেবে পরিচিত। উন্নত দেশগুলোর মতো আমাদের দেশেও এই খন্ডকালীন পেশা সমাদৃত হচ্ছে, আর হবেই না কেন প্রতিনিয়ত জীবন যাত্রার মান কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে যাচ্ছে। নিম্ন মধ্যম আয়ের লোকজনের প্রতিনিয়ত এসব কঠিন জীবনের জন্য যুদ্ধ করতে হচ্ছে। সবাই ছুটছে কিভাবে বাড়তি আয় করা যায়। বর্তমানে প্রযুক্তির কল্যাণে বাড়তি আয় বা ঘরে বসেই বাড়তি আয় করা সম্ভব হচ্ছে। শিক্ষার্থী অবস্থায় ও এসব বিষয়ে জানা ও শেখা যায় এবং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্বল্প প্রশিক্ষণ নিয়েও এ কাজে যুক্ত হওয়া যায়। ধরন, আপনি কোন প্রতিষ্ঠান এ একাউন্টিং বিভাগে চাকরি করছেন। অফিস থেকে ফিরে বাড়তি সময়ে এ বিষয়েই অনলাইনে কাজ করতে পারেন কিংবা যদি লেখালেখি পছন্দ করেন তাহলে লেখালেখি করেই মাসে বাড়তি আয় যুক্ত করতে পারেন। আবার আপনার যদি ছবি তুলতে বা ভ্রমণ করতে ভালো লাগে তাহলে ছবি তুলে অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন কিংবা ভ্রমণ বিষয়ে লেখালেখি করেও আপনি আয় করতে পারেন। তাই আজকের আর্টিকেল তাদের জন্য যারা চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয় করতে চান। তাহলে চলুন দেরি না করে শুরু করা যাক।

আশা করি, চাকুরির পাশাপাশি যে কাজগুলো করতে পারেন বাড়তি আয়ের জন্য আর্টিকেলটি পড়ে উপকৃত হবেন। আপনারা উপকৃত হলেই লেখাটি সার্থক হবে।

চাকুরির পাশাপাশি ছোটখাটো ব্যবসাঃ

বাড়তি আয়ের জন্য সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হল চাকুরির পাশাপাশি ছোটখাটো একটা ব্যবসা শুরু করা। এটি যেহেতু হবে মূল কাজের পাশাপাশি একটি কাজ কিন্তু করতে পারলে এটি অনেক বড় হতে পারে। এতে আপনাকে আপনার মেধা ও দক্ষতা কে কাজে লাগাতে হবে। এমন একটি কাজ করতে পারেন যেটাতে আপনি মজা পান। আস্তে আস্তে আপনি এই ছোটখাটো ব্যবসা থেকেই লাভবান হতে পারবেন।

শখের কাজ করার মাধ্যমে আয় করতে পারেনঃ

অবসর সময় বেশিরভাগ মানুষই কোন না কোন শখের কাজ করে থাকে। আর এই শখের কাজ করার মধ্য দিয়ে ও আপনি আয় করতে পারেন। সাধারণত যারা সৃজনশীল মানুষ তারা তাদের শখের কাজের মাধ্যমে বিভিন্ন উপায়ে আয় করে থাকেন। ধরুন আপনি ছবি আঁকতে পারেন কিংবা কোনো সুন্দর শিল্প তৈরি করতে পারেন তাহলে এই গুলো দিয়েই আপনি আপনার বাড়তি আয় করতে পারেন । ছোট পরিসরে এগুলো বিক্রি করতে থাকুন এতে দেখা যাবে আপনার আয় বাড়ছে।

বাড়ির উঠানে বা ছাদে বাগান করে আয় করা সম্ভবঃ

বাড়ির উঠানে কিংবা বাড়ির ছাদে ফুল বা ফলের চাষ করেও বাড়তি আয় করা সম্ভব। কি করে ছোট পরিসরে ফুল বা ফলের চাষ করা যায় সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ শুরু করা যেতে পারে, এতে যেমন অর্থ উপার্জন করা সম্ভব হবে তেমনি শরীর ও মন ভালো থাকে। আজকাল এসব বিষয়ে অনেক টিউটোরিয়াল রয়েছে ইউটিউবে। তাই এসব টিউটোরিয়াল দেখে আইডিয়া নিয়ে উঠানে বা ছাদে যেসব গাছ লাগিয়ে লাভবান হওয়া যায় সেগুলো লাগিয়ে বাড়তি আয় করা যায়।

ফটোগ্রাফি করেও আয় করতে পারেনঃ

ক্যামেরা অনেকের কাছেই আছে আর সেটি যদি হয় ডিএসএলআর ক্যামেরা তাহলে তো কথাই নেই। ক্যামেরা দিয়ে যে শুধু বিয়ে বা জন্মদিনের ফটোগ্রাফি করে আয় করা যায় তা কিন্তু না বরং নিজের একটি ফটো ব্লগ খুলেও আয় করা যায়। এমনকি কোন একটা বিষয় খুঁজেও তার ওপর ফটোগ্রাফি করা যেতে পারে এবং সেগুলো অনলাইনে যেসব সাইট রয়েছে তাতে বিক্রি করা যেতে পারে। এগুলো শেখার জন্য কোন ইনস্টিটিউটের দরকার পড়ে না গুগোল বা ইউটিউব থেকেই এগুলো শেখা যায়।

ডিজাইনিংঃ

ডিজাইনিং ও হলো চাকুরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের একটা মাধ্যম। নিজের ডিজাইনগুলো অনলাইনে বিভিন্ন সাইটে আপলোড করে আপনি আয় করতে পারেন। তবে প্রথম দিকে তেমন টাকা না আসলে ও আস্তে আস্তে প্রতিমাসে একটা ভালো উপার্জন হবে।

বিভিন্ন ভিডিও তৈরি করে আয়ঃ

নিজে যদি কোন বিষয়ে দক্ষ হোন তাহলে আরেক জনকে তা শেখার জন্য ভিডিও তৈরি করে সহজেই আয় করতে পারেন। ইউটিউব হল এর জন্য একটা চমৎকার প্ল্যাটফর্ম। এছাড়াও রয়েছে coursera এর মতো অনেক ওয়েবসাইট, যেখানে কোন বিষয়ের উপর টিউটরিয়াল তৈরি করে সেল করা যায়। ভিডিও তৈরি করা এমন কোন কঠিন কাজ নয়, যেকোনো বিষয়ের উপর সিম্পল ভিডিও তৈরি করে রেভিনিউ জেনারেট করা যেতে পারে।

সফটওয়্যার ডেভলপমেন্ট করেও আয় করা যায়ঃ

সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট করে আয় করা সম্ভব। ভালো আইডিয়া এবং ভালো সফটওয়্যার তৈরি করতে পারলে একটা সফটওয়্যার থেকেই যথেষ্ট রেভিনিউ আসতে পারে। সব সময় যে বড় কোন প্রজেক্ট করতে হবে তা না, সিম্পল কিন্তু ইফেক্টিভ কিছু দিয়েই ভালো কিছু করা সম্ভব।

ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করাঃ

বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত একটি শব্দ হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। এর অর্থ হলো স্বাধীন বা মুক্ত পেশা। বর্তমানে দেশের প্রায় হাজার হাজার তরুণ তরুণী এ পেশায় নিজেকে যুক্ত করে নিজের আর্থিক উন্নতি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রত্যেকে প্রায় এক থেকে দেড় হাজার মার্কিন ডলার আয় করছে ঘরে বসেই। তাই এটি চাকুরীর পাশাপাশি একটি বাড়তি আয়ের চমৎকার সুযোগ।

ব্লগিংঃ

চাকরির পাশাপাশি যে কাজগুলো করতে পারেন বাড়তি আয়ের জন্য তার মধ্যে ব্লগিং একটি সুন্দর পন্থা। একটি ওয়েবসাইট খুলে নিজের পছন্দের বিষয় এর উপর লিখলে এবং ওয়েবসাইটে অ্যাড দিয়ে ও সুন্দর একটা রেভিনিউ জেনারেট করা যায়। যে কোনো খেলাধুলা , রান্নাবান্না, যে কোনো বইয়ের রিভিউ বা মুভি রিভিউসহ যে কোনো বিষয়ের উপর আর্টিকেল লেখা যায়। এগুলো লিখে আপনি আপনার ব্লগ সাইটে পাবলিশ করতে পারেন এবং এখান থেকেই আস্তে আস্তে আয় উপার্জন করা সম্ভব। বর্তমানে এই পেশাটির অনেক চাহিদা। ভালো ইংরেজি জানলে ভাল আয় করা সম্ভব হয়।

ডিজিটাল মার্কেটিংঃ

অনলাইনে পণ্য বা সেবার খবর অন্যদের কাছে প্রচার করাকে ডিজিটাল মার্কেটিং বলে। এখন বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই তাদের পণ্য, সেবা বা আয়োজনের প্রচার অনলাইনে করতে চায়। এজন্য তারা ওয়েবসাই্‌ট, ফেইসবু্‌ক, গুগোল সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উপর নির্ভর করছে। একজন ডিজিটাল মার্কেটার অর্থের বিনিময়ে এসব মাধ্যমে প্রচারের সুযোগ করে দেন। এখান থেকে ভাল আয় করা সম্ভব।

পদোন্নতির জন্য চেষ্টা করুনঃ

কোন কিছুর মাধ্যমে যদি বাড়তি আয় করার সুযোগ না থাকে তাহলে আপনার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে পদোন্নতির জন্য। পদোন্নতির জন্য পড়াশোনা থেকে শুরু করে সব ধরনের যোগ্যতা পূরণ করে আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রধানের নিকট পদোন্নতির জন্য আবেদন করুন। এটা করতে পারলে নিঃসন্দেহে আপনার আয় আগের চেয়ে বাড়বে। সুতরাং আয় বাড়াতে হলে পদোন্নতির চেষ্টা চালাতে থাকুন।

পরিশেষে, চাকুরির পাশাপাশি যে কাজগুলো করতে পারেন বাড়তি আয়ের এর জন্য আর্টিকেলটি পড়ে কিছুটা হলেও আপনাদের ধারনা দিতে পেরেছি শুধুমাত্র ধৈর্য এবং অনুশীলন করে যে কেউ ঘরে বসেই বাড়তি আয় করতে পারে। আপনার পছন্দ মত কাজ নির্বাচন করে অনলাইন থেকে টিউটরিয়াল দেখেও এসব কাজ শিখতে পারেন। এভাবে বাড়তি আয় করতে পারেন। তবে পরিশ্রম ছাড়া বিকল্প কোন রাস্তা নেই। তাই পরিশ্রম করুন, ধৈর্য ধরুন সাফল্য আসবেই। সবার জন্য রইল শুভকামনা।