ইন্টার্নশিপ

ইন্টার্নশিপ করার উপকারিতাগুলো জেনে রাখুন

ইন্টার্নশিপ শব্দটির সাথে আমরা বেশ পরিচিত। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা শেষ করার সময় কোন না কোন প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ করতে হয়। ইন্টার্নশিপ হলো পুরোদমে পেশাজীবন শুরু করার আগে নিজের দক্ষতা ও নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ। আমরা সবাই চাই পড়াশোনা শেষ করে নিজের সাবজেক্ট রিলেটেড কোন চাকরি করতে। বিভিন্ন কোম্পানি বিভিন্ন সাবজেক্ট এর জন্য নির্ধারিত কিছু কাজ সংযুক্ত করে ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা করে দেয়। ফলে পড়াশুনার সাথে কাজের সেতুবন্ধন হিসেবে ইন্টার্নশিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে বিভিন্ন কোম্পানির সংযোগ থাকে। ফলে ছাত্রছাত্রীরা ইন্টার্নশিপের জন্য এপ্লাই করতে পারে। মূলত এ কাজটি করে ছাত্রছাত্রীরা তাদের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জন করে। চাকরির বাজারে পূর্বঅভিজ্ঞতা কে প্রাধান্য দেয়া হয় তাই ইন্টার্নশিপ হতে পারে পূর্ব অভিজ্ঞতা। তাহলে বোঝা যাচ্ছে যে, ইন্টার্নশিপ করার উপকারিতা কতখানি। তাহলে চলুন দেরি না করে ইন্টার্নশিপ করার উপকারিতাগুলো জেনে নেই।

ইন্টার্নশিপ করার উপকারিতাঃ ইন্টার্নশিপ কি?

ইন্টার্নশিপ হল নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কোন প্রতিষ্ঠানে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে আবার বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করা। যারা ইন্টার্নশিপ করে তাদের বলা হয় ইন্টার্ন বা শিক্ষানবিশ। ইন্টার্ন হিসেবে যোগদানের মাধমে একজন ফ্রেসার তার কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে জানতে পারে এবং পাশাপাশি নানারকম কাজ শেখার ও প্রয়োজনীয় নেটওয়ার্ক তৈরির সুযোগ পেয়ে থাকে যা তাকে তার ক্যারিয়ারের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করে।

ইন্টার্নশিপ করার উপকারিতাঃ প্রকারভেদ

ইন্টার্নশিপ সাধারণত ৩ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত হয়ে থাকে।আবার প্রতিষ্ঠানভেদে ১ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। ইন্টার্নশিপ ২ ধরনের হয়ে থাকে পেইড ইন্টার্নশিপ এবং আনপেইড ইন্টার্নশিপ।

এতক্ষণ আমরা ইন্টার্নশিপ কি এবং কি রকমের হয়ে থাকে এগুলো সম্পর্কে জানলাম এখন আমরা ইন্টার্নশিপ এর উপকারিতা গুলো সম্পর্কে জানব।

নেটওয়ার্ক তৈরিতে সাহায্য করেঃ

নতুন জায়গায় ইন্টার্নশিপ করতে গেলে সেখানে সহকর্মী এবং ইন্টার্নশিপের দায়িত্বে যারা আছেন তাদের সাথে একটা ভালো সম্পর্ক তৈরি করে নিতে হয়। এতে যখন ইন্টার্নশিপ শেষ হয়ে যায় তখনও তাদের সাথে একটা ভালো নেটওয়ার্ক থাকে এতে করে চাকরি ক্ষেত্রে সুযোগ পাওয়া যায়। যদি কখনো সিভি তৈরি করতে রেফারেন্স এর সাহায্য লাগে তাহলে এই নেটওয়ার্ক থেকে তা পাওয়া সম্ভব হয়। তাছাড়া নতুন কোন চাকরিতে রিকমেন্ডেশন ও পাওয়া সম্ভব হয়।

চাকরির সুযোগ তৈরি হয়ঃ

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেই ইন্টার্নশিপ থেকে স্থায়ী কাজের সুযোগ মেলে। এক্ষেত্রে প্রথম দিন থেকেই নিজেকে উৎসাহী ও কাজের প্রতি আগ্রহী করে তুলুন। কাজের প্রতি আগ্রহী ব্যক্তিদের সুযোগ থাকে বেশি। চাকরি স্থায়ী করার জন্য প্রতিষ্ঠানের কর্পোরেট রীতিনীতি বুঝে নিন।

কর্ম জগত বুঝতে সহজ হয়ঃ

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চাকরিপ্রার্থীরা কোনরকম পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই কর্ম জগতে প্রবেশ করে। সেক্ষেত্রে নতুন পরিবেশে কিভাবে মানিয়ে নিতে হবে এসব সম্পর্কে কোন ধারনাই থাকেনা। এক্ষেত্রে ইন্টার্নশিপ হতে পারে একটা চমৎকার মাধ্যম। আগে থেকে কাজ করলে কাজের ধরন এবং পরিবেশ বুঝতে অনেক সুবিধা হয়।

বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরি হয়ঃ

বাস্তব অভিজ্ঞতা চাকরি ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ইন্টার্নশিপের এই সময়টিতে কাজের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন করা সম্ভব হয় ফলে যখন ফুল টাইমার হিসেবে কাজে যোগ দেবার সময় আসে তখন ইন্টার্নশিপের কাজের অভিজ্ঞতা খুবই সাহায্য করে।

নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগানো যায়ঃ

ইন্টার্নশিপ করা মানেই কাজে দক্ষতা অর্জন করা। এক্ষেত্রে ইন্টার্নশিপ করার মাধ্যমে বুঝতে পারা যায় ক্যারিয়ার সম্পর্কে আপনি যে জগৎটাকে বেছে নিচ্ছেন তা আপনার জন্য ভালো হবে কি না। ক্যারিয়ারের লক্ষ্য পূরণ করার জন্য নিজেকে কোথায় কোথায় সংশোধন করা উচিত তা বুঝার সুযোগ ইন্টার্নশিপ থেকেই পাওয়া সম্ভব হয়। পরবর্তীতে এই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যৎ জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাবার প্লাটফ্রম হিসেবে কাজ করে ইন্টার্নশিপ।

শেখার মনোভাব গড়ে ওঠেঃ

ইন্টার্নশিপ শুরু করলেই যে শিখতে পাওয়া যাবে তা নয় শেখার দায়িত্ব নিজেদের। নতুনদের সেভাবে কাজ না জানাই স্বাভাবিক। তাই সংকোচ না করে আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন করুন। ভুল থেকে শেখার মনোভাব গড়ে তুলুন।
সিভিতে অভিজ্ঞতা যোগ হয়ঃ

সিভিতে প্রথমেই গুরুত্ব পায় রেজাল্ট। তারপর ইন্টারনির অভিজ্ঞতা গুরুত্ব পায়।ইন্টার্নি করার ফলে কাজের অভিজ্ঞতা হয় এবং পরবর্তীতে আপনি আপনার অভিজ্ঞতাগুলো সিভিতে তুলে ধরতে পারবেন যা দিয়ে নিয়োগকর্তাদের আপনি আকৃষ্ট করতে পারবেন।

মেন্টর খুঁজে পেতে সাহায্য করেঃ

ইন্টার্নশিপের সময়টিতে কাজ করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভিতরে এবং বাহিরে অনেকের সাথেই পরিচয় হয় এবং তাদের সাথে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়। আর এর মাধ্যমে আপনি সহজেই পছন্দমত যে কাউকে মেন্টর হিসাবে নির্বাচন করতে পারেন যিনি আপনাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করবেন।

ইতিবাচক মনোভাবঃ

শুরুতে আপনার মনে হতে পারে যে আপনার মেন্টর আপনাকে বেশি কাজ দেয়, চাপে রাখে কিন্তু এই কাজের মাধ্যমে তারা দেখেন যে আপনি চাপে পড়ে কোন কাজ কিভাবে করতে পারে্‌ন, নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করার ক্ষমতা আছে কি না, আপনার কাজ কতটুকু বা কেমন ভালো হয় ইত্যাদি। তাই প্রত্যেকটি কাজ এমন নিখুঁতভাবে করুন যেন এটাই আপনার জীবনের শেষ কাজ। আপনার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করুন। নিজের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করুন।

ইন্টার্নশিপ করার ক্ষেত্রে করণীয় কিছু বিষয়ঃ

ইন্টার্নশিপের জন্য সবচেয়ে ভালো সময় হলো বিশ্ববিদ্যালয় জীবন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ইন্টার্নশিপ করা সবচেয়ে উপযুক্ত কারণ এ সময় বাইরের জগতের সাথে মিলিত হবার একটি বড় সুযোগ থাকে হাতের কাছে। সুযোগটা অবশ্যই কাজে লাগানো উচিত একজন শিক্ষার্থীর। ইন্টার্নশিপ বাছাই করার ক্ষেত্রে নিজের ক্যারিয়ার কোথায় গড়ে তুলতে চান সেদিকে প্রাধান্য দিতে হবে। ধরুন, আপনি যদি ব্যাংকার হতে চান আর সেক্ষেত্রে আপনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নি করলেন তাহলে তা ভুল হবে। এরকম ভুল করা যাবে না। আপনাকে অবশ্যই একটি ভালো ব্যাংক নির্বাচন করে ইন্টার্নি করার সুযোগ তৈরি করতে হবে। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইন্টার্নশিপ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অর্থ লাভের কথা চিন্তা করা যাবে না। এতে কাজে বিশেষ উপকার পাওয়া যাবে না। ইন্টার্নশিপ করার অর্থই হলো কাজের অভিজ্ঞতা নেয়া। অর্থ উপার্জনের পথ সুগম করার জন্যই হল ইন্টার্নশিপ করা। এতে যে অভিজ্ঞতা লাভ করবেন পরবর্তীতে সেটিই অর্থ উপার্জনের সাহায্য করবে। তাই খেয়াল রাখতে হবে অর্থ উপার্জনের বিষয়টি যেন কখনো ইন্টার্নশিপ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে না দাঁড়ায়। কোথায় কোন সময় কি রকম ইন্টার্নশিপের অফার হচ্ছে তার খোঁজ খবর রাখা উচিত।

সুতরাং যারা ইন্টার্নশিপ করতে যাচ্ছেন বা ভবিষ্যতে করবেন তাদের সবারই উচিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সঠিক সেক্টর নির্বাচন করে ইন্টার্নি করা এবং ইন্টার্নশিপকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সেই সাথে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানা। এর থেকে আপনি জানতে পারেন কোন কাজে আপনার ভাল দক্ষতা আছে এবং আপনার দোষ ত্রুটি গুলো কোথায় হচ্ছে। তাই পুরোপুরি চাকরিতে ঢোকার আগে নিজের যোগ্যতা, ভুল, ত্রুটিগুলো শোধরাতে ইন্টার্নশিপই আপনাকে সাহায্য করবে। এর মাধ্যমে আপনি সময় সম্পর্কে সচেতন হতে পারবেন এবং আপনি একটি শৃঙ্খলিত জীবনে চলে আসবেন। সময়ের কাজ সময়ে করার অভ্যাস মানসিক ভাবে গড়ে তুলতে ইন্টার্নশিপ আপনাকে সহায়তা করবে।